বাংলাদেশ সরাসরি ৩য় রাউন্ড খেলার সুযোগ পেল! তাহলে আমাদের এখন কি করণীয়?
সাধারণ মানুষ রেজাল্ট চায়, র্যাংকিং দেখে, শিরোপা দেখে সাপোর্ট করতে আসে এটাই চিরন্তন সত্য!
এক ম্যাচ ভালো খেলে পরবর্তী তিন ম্যাচ খারাপ খেললে মনমরা সমর্থনই পাবেন।
রেজাল্ট ছাড়া ও ভালো খেলা উপহার দেয়া যায় যেটাকে সম্মানজনক হার বা ফাইটিং ম্যাচ বলে।বাংলাদেশের মানুষ খুব আবেগপ্রবণ ভালো খেললে মাথায় তুলে রাখবে আবার হারলেই পায়ের নিচে। ভালো খেলা উপহার দিলে সমর্থনের অভাব হবে না। ভালো গেইম উপহার দেন ফুটবল অটোমেটিকই প্রমোট হবে। ইদানীং অনেক মানুষকেই দেখছি এদেশের ফুটবলে নিয়ে তাদের আগ্রহ জন্মাচ্ছে,তারা জানতে চায়,খোঁজ খবর রাখতে চাই। কিন্তু দলের বাজেভাবে হার আর ভরাডুবি দেখে হতাশ হয়ে যায় তখন এই বিরক্তিকর ম্যাচ দেখা তাদের ধৈর্য এর মধ্যে পড়েনা। এই জেনারেশন ইউরোপীয়ান স্পীডি ফুটবল দেখতে অভ্যস্ত।তারা এসে যদি এমন খেলা দেখে ফুটবলের 'ফ' এর খবরও নিবেনা।
কাজের কথায় আসি কি করণীয়ঃ যা একান্ত ব্যক্তিগত মনোভাব -
☑️ আপনি ফুটবল খেলবেন কেন? জেতার জন্য অথবা কোন ম্যাচ ড্র-ই হলো ধরে নিলাম। মূল লক্ষ্য কি র্যাংকিংয়ে উন্নতি করা অথবা শিরোপা সন্ধ্যানী হওয়া নয়?আপনার যদি লক্ষ্যই থাকে শুধু বিপক্ষ দল এ্যাটাক করবে আর আমরা শুধু ডিফেন্ড করেই যাব আর ১ পয়েন্টই আদায় করাই আমাদের লক্ষ্য!! গোলের খেলা ফুটবল আর আপনি শুধু গোল বাঁচানোর ধান্দায় আছেন! প্রথমেই নামেন বিপক্ষ দল যাতে গোল না দিতে পারে। আরে বাবা! ওদের কথা কেন চিন্তা করবেন?
তোমরা (বাংলাদেশ) গোল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তো ওরা প্রেসারে পড়ে। এ্যাটাকটা আমাদের উপরেও কম পড়ে! মানে হচ্ছে গোল খাওয়া যাবেনা এটাই টার্গেট!তাহলে ফুটবল না খেলে চুড়ি পড়ে ঘরে বসিয়ে রাখেন প্লেয়ারদের। গোল হজম করা থেকে গোল দেওয়ার প্রচেষ্টা কে কেন্দ্র করে গেইম প্ল্যান না করলে কিছুই হবে না।
মোদ্দাকথা ম্যাচের আল্ট্রা ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজি থেকে দলকে অতি দ্রুত ফিরিয়ে আনতে হবে।
☑️ জেমি ডে বাংলাদেশ দলকে একটা জিনিস উপহার দিয়েছে সেটা হলো আগে ৯০ মিনিট খেলার স্ট্যামিনা দেখা যেতো না। এখন খেলোয়াড়েরা কিছুটা উন্নতি করেছে।কোচের প্ল্যান আল্ট্রা ডিফেন্সিভ হওয়ায় আমাদের স্ট্রাইকাররা গোল পাচ্ছেনা।দয়া করে পুরো মাঠের ফর্মেশন ১-১০-০-০ এমন আর চাইনা ।
ধন্যবাদ জেমি ডে সবকিছুর জন্যে।এবার নতুন কাউকে চাই যে রিস্ক নিতে জানে,ফাইটিং করার এবিলিটি রাখে।
☑️ ফুটবল কোনো রেডিমেড কাপড় না।
খুব দ্রুত একটা নিদিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে একাডেমি, আধুনিক মাঠ,জিমনেসিয়াম না হলে র্যাংকিংয় আগানোর স্বপ্ন এখানেই পরে থাকবে।তাই নিদিষ্ট গোল সেট হোক যেমন ১২ বছর পর এশিয়া কাপের জন্যে প্রস্তুতি নিয়ে খেলোয়াড় তৈরি করা।
যেমন ১৫ বছরে র্যাংকিংয়ে ১০০ এর ভিতর আসা। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের সম্ভাবনা নিয়ে টিম প্রস্তুত করা।
☑️ বাংলাদেশে ফরওয়ার্ড লাইনে যে ঘাটতি এটা খুবই দুশ্চিন্তার। তাই অতিসত্বর এলিটা কিংসেলে,ওবায়দূর নবাব সহ যে সকল প্রবাসী প্লেয়ার আছে তাদেরকে গাইড করে একাদশে নিয়ে আসা।
☑️ খেলোয়াড় নির্বাচনে স্বজনপ্রীতি পরিহার ও কোচের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।সিন্ডিকেট ভেঙে যারা যোগ্য তাদের ই স্থান হোক বাংলাদেশ টিমে।
☑️ বাফুফের কথা বলে আসলে লাভ নাই। তারা ক্ষমতালোভী রাষ্ট্রযন্ত্রের দাস। এই স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিবর্গ গদি ছাড়বেনা তাই তাদেরকে দিয়ে কিভাবে ভালো কিছু করানো যায় ভাবতে হবে। এই চেষ্টাটা জনগণের প্রেসার এর উপর নির্ভর করে।


No comments